বগুড়া শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে বগুড়া জেলার ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার লাভ করেছেন। চাঞ্চল্যকর একটি ক্লুলেস শিশু হত্যা ও চুরির মামলার রহস্য দ্রুততম সময়ে ও দক্ষতার সঙ্গে উদঘাটন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনায় তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ তার কার্যালয়ে পুলিশ পরিদর্শক জয়নুল আবেদীনের হাতে অর্থ পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ তাকে বগুড়া জেলার ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট শেরপুর থানার ররোয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশু রাজু হোসেন নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, বাদীর প্রতিবেশী মোত্তাকিন (২২) বিস্কুট ও চকোলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত মিশুক গাড়িতে করে শিশুটিকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
চুরির ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মোত্তাকিন তার সহযোগী আব্দুল করিম (৪২)-কে সঙ্গে নিয়ে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার গাবরগাড়ী গ্রামের একটি ধানক্ষেতে শিশু রাজুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে কাদার নিচে মাথা চেপে ধরে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়।
মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর পুলিশ পরিদর্শক জয়নুল আবেদীন কোনো প্রত্যক্ষ ক্লু না থাকা সত্ত্বেও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নেন। পাশাপাশি কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য আসামিদের শনাক্ত করেন। পরে তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামি মোত্তাকিন এবং শেরপুর থেকে আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গাবরগাড়ী গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে শিশু রাজু হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চুরি হওয়া ব্যাটারিচালিত মিশুক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মোত্তাকিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেন বলে মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কোনো দৃশ্যমান ক্লু না থাকা একটি চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা ও চুরির মামলার রহস্য দ্রুততম সময়ে উদঘাটন, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধারে পুলিশ পরিদর্শক জয়নুল আবেদীনের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে। তার তদন্ত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে বগুড়া জেলার ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার’ নির্বাচিত করে তাকে বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়