সীমান্তের দুর্গম পথ যেন চোরাই মোবাইল ফোন প্রবেশের নতুন করিডর! কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নামিদামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন দেশে আনার অভিযোগ উঠেছে। পরে এসব ফোন তুলনামূলক কম দামে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব।
সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আসাদ মোর এলাকায় প্রশাসনের অভিযানে অর্ধশতাধিক মোবাইল হ্যান্ডসেট উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসার পর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন প্রবেশের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাঁশজানি ও শালঝোড় সীমান্ত এলাকায় এই কারবারের সঙ্গে অন্তত ৩৫ জন জড়িত। তবে তাঁদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া কচাকাটা, ফুলবাড়ী, রৌমারী ও উলিপুরের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করেও চোরাই মোবাইল ফোন আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কম দামে বিক্রি, ক্ষতির মুখে বৈধ ব্যবসায়ীরা
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শুল্ক ও প্রযোজ্য কর পরিশোধ না করে দেশে আনা মোবাইল ফোন তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। অবৈধভাবে আমদানি করা ফোনের সরবরাহ ও বিক্রি অব্যাহত থাকলে বৈধ ব্যবসায়ীদের বাজার আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, এসব ফোনের মাধ্যমে প্রযোজ্য শুল্ক-কর আদায় না হলে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তবে এ ঘটনায় সরকারের প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন।
নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে যাচাই জরুরি
চোরাই পথে আসা মোবাইল ফোনের উৎস ও বৈধতা যাচাই না করা হলে সেগুলোর মালিকানা শনাক্তকরণ এবং অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর, নিবন্ধন এবং আমদানি-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে অবৈধ ফোন শনাক্ত করা জরুরি।
তবে অনিবন্ধিত বা অবৈধভাবে আমদানি করা সব ফোন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর দাবি
স্থানীয়দের মতে, শুধু সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। চোরাচালানের উৎস, পরিবহনব্যবস্থা, মজুতস্থান এবং বিক্রয়কেন্দ্র শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন প্রবেশের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।