পিরোজপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন ও শেষকৃত্য ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক বাধার মুখে অবশেষ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টায় কড়া প্রশাসনিক সতর্কতার মধ্যে তার নিজ বাড়িতে দাফন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মানিক পশারীর মৃত্যুর পর থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদান ও দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সাঈদী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মৃতদেহটি কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
অবশেষে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার মানিক পশারীর নিজ বাসভবনে কবরের মাটি কাটার কাজ এবং দাফনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়। পিরোজপুর সদর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ও মধ্যরাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনে রাত ২টায় পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করতে সমর্থ হয় প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পিরোজপুর সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন মানিক পশারী, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। সাঈদী মামলায় তার ভূমিকা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করেই পিরোজপুরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা ও স্থবিরতার তৈরি হয়।