টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০মঙ্গলবার , ৩০ জুন ২০২৬
  1. অর্থ ও বাণিজ্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম
  4. খবরের দিগন্ত
  5. খেলাধুলা
  6. তথ্য প্রযুক্তি
  7. বাংলাদেশ
  8. বিনোদন
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ
আজকের সর্বশেষ খবর

ইসলামি শরিয়তের আলোকে কুরবানির ওয়াজিবের শর্ত ও নিয়ম

ডেস্ক নিউজ
মে ১৯, ২০২৬ ২:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য ইবাদত হলো কুরবানি। হিজরি জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নামে পশু জবেহ করার মাধ্যমে এই ইবাদত সম্পন্ন করা হয়। পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত্য বা ইজমা দ্বারা কুরবানি সুপ্রমাণিত। পবিত্র কুরআন মাজিদে সুরা কাউসারের ২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও কুরবানি কর।” ইসলামি শরিয়তের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানটি সঠিকভাবে পালনের জন্য এর শর্ত ও নিয়মাবলী জেনে রাখা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।

কুরবানি যাদের ওপর ওয়াজিব:
১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো মুসলিম নর-নারীর কাছে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তবে তাঁর ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। এই নেসাবের ক্ষেত্রে নগদ টাকা-পয়সা, সোনা-রূপার অলঙ্কার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি কিংবা সৌখিন ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মূল্য হিসাবযোগ্য হবে।

কুরবানির পশুর ধরণ ও বয়স:
কুরবানি শুধু শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট গৃহপালিত পশু বা ‘বাহীমাতুল আনআম’ দ্বারা আদায় করতে হবে। এগুলো হলো উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পশুগুলো ছাড়া অন্য কোনো জন্তু কুরবানি করেননি। ইমাম মালিক রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে, শিংওয়ালা সাদা-কালো দুম্বা কুরবানি করা সর্বোত্তম, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এমন পশু কুরবানি করেছেন। উট, গরু ও মহিষ সর্বোচ্চ সাত ভাগে কুরবানি দেওয়া সম্ভব, তবে ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কেবল একজনের পক্ষ থেকেই উৎসর্গ করা যায়।

পশুর বয়সের ক্ষেত্রে শরিয়তের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কুরবানির জন্য উটের বয়স ন্যূনতম পাঁচ বছর, গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স অন্তত এক বছর হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বার বয়স ছয় মাস হলেও যদি সেটি দেখতে এক বছর বয়সী পশুর মতো হৃষ্টপুষ্ট মনে হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে। গুণগত দিক থেকে কুরবানির পশু নিখুঁত, স্বাস্থ্যবান ও দেখতে সুন্দর হওয়া উত্তম।

পশুর নিখুঁত হওয়া ও মালিকানাস্বত্ব:
কুরবানির পশু অবশ্যই মারাত্মক দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। হাদিস অনুযায়ী স্পষ্ট অন্ধ, প্রখ্যাত রোগাক্রান্ত, স্পষ্ট পঙ্গু এবং অঙ্গভাঙা বা অতিশয় দুর্বল পশু দ্বারা কুরবানি করা জায়েজ নয়। তবে পশুর শিং ভাঙা, কান, লেজ বা ওলান সামান্য কাটা থাকলে কুরবানি আদায় হলেও তা মাকরূহ হবে। এছাড়া পশুর ওপর কুরবানিদাতার পরিপূর্ণ মালিকানা থাকতে হবে; বন্ধক রাখা, কর্জ করা কিংবা পথে কুড়িয়ে পাওয়া পশু দিয়ে কুরবানি হবে না।

পশু নির্দিষ্টকরণ ও ব্যবহারিক নিয়ম:
কুরবানির নিয়তে পশু কেনার মাধ্যমে বা মুখে উচ্চারণের দ্বারা পশুটি কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। নির্দিষ্ট হওয়ার পর সেই পশুকে অন্য কাজে ব্যবহার, দান বা বিক্রি করা যায় না। এমনকি পশুর দুধ, পশম বিক্রি করা বা তাকে কৃষিকাজে ও সাওয়ারি হিসেবে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। পশম আলাদা করা হলে তা সদকা করে দিতে হবে। কুরবানিদাতার অবহেলার কারণে পশু চুরি বা নিখোঁজ হলে অনুরূপ আরেকটি পশু কেনা ওয়াজিব, তবে অবহেলা ছাড়া অনিচ্ছাকৃত কোনো ছোটখাটো ত্রুটি দেখা দিলে সেই পশু দিয়েই কুরবানি সম্পন্ন করা যাবে। প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত শরিয়তের এই নিয়মগুলো প্রতিপালন করে শুদ্ধভাবে কুরবানি আদায় করা।