1. অর্থ ও বাণিজ্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম
  4. খবরের দিগন্ত
  5. খেলাধুলা
  6. তথ্য প্রযুক্তি
  7. বাংলাদেশ
  8. বিনোদন
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ
আজকের সর্বশেষ খবর

ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে ‘মন্দির’ ঘোষণা করল ভারতের আদালত

ডেস্ক নিউজ
May 19, 2026 1:58 pm
Link Copied!

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধারের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে একটি হিন্দু মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট)। গত শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া এক যুগান্তকারী রায়ে আদালত উল্লেখ করেন যে, চতুর্দশ শতাব্দীর এই মধ্যযুগীয় স্থাপনাটি মূলত বাগদেবী (সরস্বতী) দেবীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি মন্দির ছিল। আদালতের এই রায়ের পর গত রবিবার থেকে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এই ভোজশালা চত্বরে কড়া পুলিশি পাহারার মাঝেই প্রতিমা স্থাপন ও গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন শুরু করেছেন স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষ এই রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে।

সুদীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এই মসজিদে আজান দিয়ে আসা ৭৮ বছর বয়সী মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ রফিক অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে আল জাজিরাকে বলেন, “গত শুক্রবার পর্যন্ত এই মসজিদটি আমাদের ছিল, আজ আর আমাদের নেই। স্বপ্নেও ভাবিনি এমন দিন দেখতে হবে।” ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে রফিকের দাদাও এই মসজিদে ইমামতি করতেন। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের কারণে এতদিন সংরক্ষিত এই স্থাপনাটিতে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) ২০০৩ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা পরিদর্শনের এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা নামাজ আদায়ের সুযোগ পেতেন। তবে নতুন এই রায়ের ফলে মুসলিমদের দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে পুরো চত্বরে হিন্দুদের নিয়মিত পূজার অধিকার দেওয়া হয়েছে, আর মুসলিমদের বিকল্প স্থানে মসজিদ নির্মাণের জমি খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত মূলত দুই বছর আগে এএসআই-এর করা একটি বিতর্কিত জরিপ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই রায় দেন। তবে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রুশকে এই জরিপের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডহীন এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জরিপগুলোর কোনো ঐতিহাসিক মূল্য নেই এবং ভারতে বর্তমান মসজিদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা মূলত উগ্র হিন্দুত্ববাদের পদ্ধতিগত ইসলামোফোবিয়ার অংশ। এমনকি ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ আমলের একটি সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনে এই স্থাপনাকে স্পষ্ট ‘মসজিদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও আদালত তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা বাগদেবীর একটি মূর্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কেন্দ্রকে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আদালত, যদিও মুসলিম পক্ষের আইনজীবীদের দাবি—ঐতিহাসিক মানচিত্র অনুযায়ী ওই মূর্তিটি মূলত ধারের রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা এই মসজিদের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

ভারতের হায়দরাবাদের প্রবীণ সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই রায়কে আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “২০১৯ সালের অযোধ্যার বাবরী মসজিদ মামলার বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমেই দেশের অন্যান্য ঐতিহাসিক মসজিদগুলো দখলের এই পথ উন্মুক্ত হয়েছে। দেশের বৃহত্তম সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো আজ তীব্র হুমকির মুখে।” উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর স্লোগান ‘অযোধ্যা তো কেবল ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়’-এর ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যেই বারানসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং মথুরার শাহী ঈদগাহ মসজিদ নিয়েও একই ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী নেতা গোপাল শর্মা স্পষ্ট করেই বলেছেন, “ভারতে এখন আর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি চলে না, এখন মোদীর হিন্দুত্বই ভারতকে পরিচালনা করছে।” এই রায়ের ফলে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।