1. অর্থ ও বাণিজ্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম
  4. খবরের দিগন্ত
  5. খেলাধুলা
  6. তথ্য প্রযুক্তি
  7. বাংলাদেশ
  8. বিনোদন
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ
আজকের সর্বশেষ খবর

ইলেকট্রিক গাড়ির জোয়ার বাংলাদেশের ভাঙা রাস্তায় কতটা টেকসই?

ডেস্ক নিউজ
May 20, 2026 2:15 pm
Link Copied!

বিশ্বজুড়ে যখন কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগের স্লোগান তুঙ্গে, তখন তার ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারেও। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড বিওয়াইডি (BYD) সহ বেশ কিছু নামী প্রতিষ্ঠান দেশের বাজারে তাদের অত্যাধুনিক নিউ এনার্জি ভেহিকল বা হাইব্রিড ও ফুল ইলেকট্রিক গাড়ি (EV) অবমুক্ত করেছে। পরিবেশ রক্ষা এবং জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের দিক থেকে এই প্রযুক্তির আগমন নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের বর্তমান সড়ক অবকাঠামো, ট্রাফিক জ্যাম আর জলবায়ুগত বাস্তবতায় এই কোটি টাকার সংবেদনশীল গাড়িগুলো কতটা টেকসই হবে?

প্রথম চ্যালেঞ্জটিই আসে আমাদের দেশের সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থার চিরচেনা রূপ থেকে। ঢাকার মতো মেগাসিটিতে একটি গাড়িকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। ফুল ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি ব্যাকআপ যতই উন্নত হোক না কেন, দীর্ঘ সময় এসি অন করে জ্যামে বসে থাকা এবং ঘন ঘন ‘স্টার্ট-স্টপ’ করার ফলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর চেয়েও বড় শঙ্কা জাগায় ঢাকার ভাঙা রাস্তাঘাট ও খানাখন্দ। ইলেকট্রিক গাড়ির অন্যতম প্রধান ও ব্যয়বহুল অংশ হলো এর ‘ব্লেড ব্যাটারি’ বা আন্ডার-কার বডি ব্যাটারি প্যাক, যা সাধারণত গাড়ির নিচের অংশে বসানো থাকে। দেশের অধিকাংশ সড়কের খানাখন্দ পার হতে গিয়ে যদি গাড়ির নিচের অংশে কোনো জোরালো আঘাত লাগে, তবে ব্যাটারি প্যাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা বিপুল আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দ্বিতীয় বড় শঙ্কার কারণ বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকার মিরপুর, ডিএনডি বাঁধ এলাকা কিংবা চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যাওয়া এ দেশের নিয়মিত চিত্র। পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ি যেখানে জলাবদ্ধ রাস্তায় বিকল হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, সেখানে একটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ও অত্যাধুনিক সেন্সর-সম্বলিত গাড়ি পানির নিচে কতক্ষণ সুরক্ষিত থাকবে, তা ভাবনার বিষয়। যদিও আধুনিক ইভি নির্মাতারা তাদের ব্যাটারি ও মোটর ‘আইপি৬৭’ (IP67) রেটেড ওয়াটারপ্রুফ বলে দাবি করেন, তবুও বাংলাদেশের নোংরা ও রাসায়নিক মিশ্রিত জমা পানিতে এই কোটি টাকার বিলাসবহুল সেডান বা এসইউভিগুলো কতটুকু নিরাপদ, তা এখনো পরীক্ষিত নয়।

সর্বোপরি রয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। চার্জিং স্টেশনের অপর্যাপ্ততা এবং দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোডশেডিংয়ের বাস্তবতায় একজন গ্রাহক দূরপাল্লার যাত্রায় কতটুকু স্বস্তি পাবেন, সেই হিসাব মেলাানো ভার। পরিবেশের সুরক্ষায় এবং প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ইলেকট্রিক গাড়ির কোনো বিকল্প নেই, এটি সত্য। তবে এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সফলতার পূর্বশর্ত হলো উন্নত ও মসৃণ সড়ক যোগাযোগ এবং জলমগ্নতামুক্ত নগরী। এই কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে, বাংলাদেশের ভাঙা রাস্তায় কোটি টাকার ইলেকট্রিক গাড়ি শুধুই উচ্চবিত্তের গ্যারেজের শোভা বা শৌখিনতার অনুষঙ্গ হয়েই থেকে যাবে; সাধারণ মানুষের টেকসই গণপরিবহন হয়ে উঠতে পারবে না।