রাশিয়া ও ইরান তাদের পারস্পরিক কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে বর্তমানের মতো এতটা সুদৃঢ় ও ঘনিষ্ঠভাবে আর কখনোই কাজ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মস্কো যখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই তেহরানের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই নতুন উচ্চতার কথা ঘোষণা করা হলো।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেহরান সফরে আসেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম সামরিক উত্তেজনার পর এটিই কোনো শীর্ষ রুশ কূটনৈতিক কর্মকর্তার প্রথম ইরান সফর। সফরকালে ল্যাভরভ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি জানান, ইউরোপ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক সংকট—বিশেষ করে লেবানন, ফিলিস্তিন, ইউক্রেন ও ইয়েমেন পরিস্থিতির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও পারমাণবিক সহযোগিতা প্রসার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই সময় তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই মস্কো ও তেহরানের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এতটা সুসংহত রূপ নেয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি এবং অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ মোকাবিলার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করার পরই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মুখে মস্কো-তেহরান অক্ষের এই ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্য তথা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।