1. অর্থ ও বাণিজ্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলাম
  4. খবরের দিগন্ত
  5. খেলাধুলা
  6. তথ্য প্রযুক্তি
  7. বাংলাদেশ
  8. বিনোদন
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ
আজকের সর্বশেষ খবর

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে চীন

ডেস্ক নিউজ
May 19, 2026 7:53 pm
Link Copied!

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীন গোপনে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তিনটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট গোপন নথি পর্যালোচনা করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের শেষ নাগাদ বেইজিংয়ের সামরিক স্থাপনাগুলোতে অন্তত ২০০ রুশ সেনাকে অত্যাধুনিক যুদ্ধকৌশলের ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। প্রশিক্ষিত এসব সেনার একটি অংশ ইতোমধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নিচ্ছে বলে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই মস্কো ও বেইজিং সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২ জুলাই বেইজিংয়ে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় চীনের নানজিং এবং বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রুশ সেনাদের ড্রোন ব্যবহারের কৌশল ও ট্যাকটিক্যাল অপারেশনের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কেবল প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান নয়, বরং ইউরোপীয় যুদ্ধক্ষেত্রে বেইজিংয়ের আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইউক্রেন ইস্যুতে তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। তবে রয়টার্সের এই তথ্য সেই দাবির ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কেবল রুশ সেনাই চীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে না, বরং শত শত চীনা সেনাও রাশিয়ার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে নথি থেকে জানা যায়। এটি দুই দেশের মধ্যে গভীর সামরিক মৈত্রীর এক স্পষ্ট প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ভূ-রাজনীতির এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই আজ এবং আগামীকাল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলায় রাশিয়া ও চীন এখন সামরিক ও কৌশলগতভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।

ইউক্রেন যুদ্ধে চীনের এই ভূমিকা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো একে ‘অঘোষিত সামরিক সহায়তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, বেইজিং ও মস্কো বরাবরই তাদের সামরিক সহযোগিতাকে নিয়মিত ও বৈধ প্রক্রিয়া বলে দাবি করে আসছে। এই গোপন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় কোন দিকে যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।