রিও ডি জেনেইরোতে যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন একটি নাম শোনার সাথে সাথেই পুরো মিলনায়তন জুড়ে উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি আর কেউ নন, সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। সমর্থকদের সেই আকাশচুম্বী উল্লাসের কারণে স্কোয়াড ঘোষণার অনুষ্ঠান লাইভ চলাকালীন মুহূর্তের জন্য নিজের বক্তব্য থামিয়ে দিতে বাধ্য হন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নেইমারকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের এমন বাঁধভাঙা আবেগের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল—জনপ্রিয়তার চাপেই কি এই তারকাকে দলে রাখা হলো? তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কোচ আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ফিটনেস ও অভিজ্ঞতার বিচারেই নেইমারকে স্কোয়াডে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল বস আনচেলত্তি বলেন, “নেইমার নিজের ফিটনেসে ব্যাপক উন্নতি করেছে এবং এবারের বিশ্বকাপে সে দলের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই সে নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। এই ধরণের মেগা টুর্নামেন্টে খেলার বিপুল অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে এবং দলের প্রতিটি খেলোয়াড় তাকে ভীষণ পছন্দ করে।” ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ার পর এই প্রথম জাতীয় দলে ফিরলেন ১২৮ ম্যাচ খেলা এই ফরোয়ার্ড। এক বছর আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম নেইমারকে নিজের শিবিরে ডাকলেন ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড।
অবশ্য স্কোয়াড ঘোষণার আগেই নেইমার নিজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলে ফেরার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম বায়োতে সান্তোস ক্লাবের পাশাপাশি ‘ব্রাজিল’ নামটি নতুন করে যোগ করেন। তবে নেইমারের ফেরার আনন্দের দিনে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে রদ্রিগো, এস্তেভাউ এবং এদের মিলিতাওয়ের ছিটকে যাওয়া। চোটের কারণে এই তিন তারকা এবারের বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন না। এছাড়া ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন চেলসির স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রো। পেদ্রোর বাদ পড়া নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, “তার জন্য আমার সত্যিই খারাপ লাগছে। কিন্তু ব্রাজিলের মতো দলে জায়গার লড়াইটা সব সময়ই অনেক বেশি কঠিন।” আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সেলেসাওরা।