দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তারুণ্যের সব সম্ভাবনাকে বিকশিত করার প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বাধীনতা অর্জন ঐতিহাসিক গৌরব হলেও সেই পতাকাকে সমুন্নত রাখা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি তরুণদের একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ নির্মাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের এবং ২০২৪ সাল ছিল দেশের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও ঠিক একইভাবে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী সব চক্রান্ত নস্যাৎ করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। এই পথরেখা থেকে বিচ্যুত হলেই দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেকের একটিই গর্বিত পরিচয়, আর তা হলো ‘আমরা বাংলাদেশি’। এই পরিচয়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলার ভিত্তিভূমি রচিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরেই। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই বিপ্লবের তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের প্রতিটি সংকটকালে ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী জনগণকে ‘দিল্লি নয় পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিতে অটল থাকার আহ্বান জানান।