আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার মূল্যে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার, উচ্চ ট্রেজারি ইল্ড এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৯ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৪৭৪.৪০ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কর্তৃক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন পূর্বাভাসের কারণেই মূলত এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা মুনাফা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোয় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার প্রবণতা কমছে। একই সঙ্গে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণের ক্রয়মূল্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মারেক্সের পণ্য বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোতে প্রকৃত সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের ওপর সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা তৈরি করেছে। স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন অবশ্য মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি, তবে স্বল্পমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের জন্য একটি কঠিন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম এক দিনে ৫.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২.৮ শতাংশ কমে ১,৯২৩.৫৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৩ শতাংশ কমে ১,৩৭১.২৫ ডলারে নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আজ বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া ফেডের সর্বশেষ নীতি নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীর (Meeting Minutes) দিকে নজর রাখছেন, যেখান থেকে বৈশ্বিক মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।