দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (১৮ মে সকাল ৮টা থেকে ১৯ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হাম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বাকি ৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে। সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মোট ৭৭ জনের মৃত্যুর কারণ ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গে ৩ জন করে শিশু মারা গেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা ও মৌলভীবাজার জেলাকে বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে গত একদিনেই দুজন করে শিশু মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ হাজার ২৬৪ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ১১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং একই সময়ে ১ হাজার ১১০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় গত একদিনেই আরও ৭৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী এবং ৫৪ জন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম (২৩০ জন) এবং বরিশাল (১৪৭ জন) বিভাগ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। পর্যাপ্ত টিকাদান এবং সচেতনতাই এর প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। হামের উপসর্গ যেমন—উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখের লালচে ভাব এবং শরীরে লাল র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।